করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি জেলার বিভিন্ন এলাকায় করোনা সংক্রমণ বাড়ায় রেডজোন ঘোষণা করে লকডাউন নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু এদিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিট দু’টিতে রোগীর স্বজনরা মানছে না কোনো স্বাস্থ্যবিধি। ফলে অধিক হারে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে এলে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে সুস্থ মানুষের শরীরে। এজন্য নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে বলা হচ্ছে। এ নিয়ম মানলেই করোনা সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত হবে ব্যক্তি ও পরিবার। অথচ ঢামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিট দু’টিতে দেখা যায় আগত রোগীর স্বজনসহ হাসপাতালে আগত লোকজন কোনো স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই সরাসরি করোনা ইউনিট গুলোতে শুধুমাত্র একটি মাস্ক পরেই প্রবেশ করছেন। এতে তাদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এমনকি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও এসব লোকজনদের করোনা ইউনিট গুলোতে প্রবেশে কোনো বাধা ও দিক-নির্দেশনা দিচ্ছে না।

সম্প্রতি ঢামেকের করোনা ইউনিট দু’টি সামনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালে আগত মানুষগুলো শুধু একটি মাস্ক পরে করোনা ইউনিটে প্রবেশ করছে আবার বেরিয়ে যাচ্ছেন। ইউনিট গুলোর সামনে নিরাপত্তায় নিয়োজিত নেই কোনো আনসার সদস্যরাও।

ঢামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের দু’টি ভবনকে করোনা ইউনিট করা হয়েছে। একটি নতুন ভবন ও অপরটি বার্ন ইউনিট। সেখানে আগত রোগীর স্বজনসহ হাসপাতলে আগত ব্যক্তিরা শুধু একটি মাস্ক পরে করোনা ইউনিটে প্রবেশ করছেন। হাসপাতালের প্রবেশ মুখে তাদের কোনো বাধা দেওয়া হচ্ছে না। এসব লোকজন করোনা ইউনিট থেকে বের বাসায় ফিরে যাচ্ছেন আবার কেউ কেউ অফিসে যাচ্ছে। তাদের কারণে হয়তো করোনা সংক্রমণ অধিক হারে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে অনেকেই ধারণা করেছেন। কারণ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সুরক্ষা সামগ্রী ছাড়া করোনা আক্রান্ত রোগীর সামনে না যাওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন।

.
এদিকে ঢামেকের দু’টি করোনা ইউনিটের প্রবেশ মুখে হাত জীবাণুমুক্ত করার জন্য কয়েকটি বেসিন বসানো হয়েছে। কিন্তু করোনা ইউনিটে আগত লোকজন সেসব বেসিনে হাত জীবাণুমুক্ত করা তো দূরের কথা সেখানে ফিরেও দেখছে না।

হাসপাতালে আনসার সদস্যদের করোনা দুটি ইউনিটের প্রবেশমুখে তারা দায়িত্ব পালন করলেই মানুষ সতর্ক হয়ে হাসপাতালে প্রবেশ করবে এবং তাদের নির্দেশনায় হাত জীবাণুমুক্ত করতে বাধ্য হবে।

করোনা ইউনিট-১ এর সামনে হাত জীবাণুমুক্ত করার জন্য কয়েকটি বেসিন লাগিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সেখানে গিয়ে দেখা যায় কোনো বেসিনেই পানি নেই। একটি বেসিন ভাঙা। আবার নতুন ভবনের নিচতলার সামনে দু’টি বেসিন লাগানো হয়েছে। সেখানেও বেসিনে পানি থাকলেও হাত ধোয়ার করার জন্য নেই সাবান।

এ বিষয়ে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি বিস্তারিত বিষয় শুনে বলেন, এটা খুবই সিরিয়াস বিষয়, হাসপাতলে সুরক্ষা সামগ্রী ছাড়া প্রবেশ করছে এটা তো মেনে নেওয়া যায় না। এভাবে তো ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ ব্যাপারটা আমরা খুব সিরিয়াসভাবে দেখছি এখন থেকেই। এখনই আমি হাসপাতালে সেন্ট্রাল মাইকে আনসার সদস্যসহ সবাইকে সতর্ক করতে নির্দেশনা দিচ্ছি।

হাত জীবাণুমুক্ত করার জন্য বেসিনের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বেসিনগুলো যেখানে লাগিয়েছি সেটা ঠিক হয়নি। আমরা আবার নতুন করে বেসিনগুলো লাগিয়ে দিচ্ছি। সেখানে হাত জীবাণুমুক্ত করার জন্য সাবান দেওয়া হবে। পিপিই পরাসহ সবাই যেন হাত জীবাণুমুক্ত করে হাসপাতালে প্রবেশ করতে পারে এজন্য সেখানে আনসার সদস্যদের ডিউটি দেওয়া হবে।

এর কিছুক্ষণ পরেই হাসপাতালের সেন্ট্রাল মাইকে পরিচালক নির্দেশনা দিচ্ছিলেন। নির্দেশনা গুলো ছিল এমন ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সুরক্ষাসামগ্রী পরে হাসপাতালে প্রবেশ করুন। আপনাদের অবহেলার জন্য অন্য কেউ এ ভাইরাসে আক্রান্ত হোক, এটা কোনো ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আনসার সদস্যরা আপনারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করুন। স্বাস্থ্য সুরক্ষা ছাড়া কাউকেই হাসপাতালে প্রবেশ করতে দেবেন না। এ ব্যাপারে কারো যদি অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায় তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে ’।