বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ভাইরাসটির নতুন ধরন আগের চেয়ে অন্তত ৭০ গুণ বেশি দ্রুত ছড়াচ্ছে। প্রতিদিন মৃত্যু ঘটছে অনেক মানুষের। কিন্তু বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের করোনা সম্পর্কে অসচেতনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের এ ট্রাস্টি প্রতিক্রিয়া জানান।
তিনি লিখেছেন, “মাস্ক ছাড়া এত মানুষের ছবি দেখে আমি অবাক। কখনও ইনডোরে, কখনো মিটিংয়ে, পার্টিতে, কনফারেন্সে, পারিবারিক অনুষ্ঠানে, আড্ডায় তারা মাস্ক ছাড়াই জটলা করছেন। সরকারি কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মী, ত্রাণকর্মী, এনজিও কর্মী, বিনোদন তারকা, বেসরকারি চাকরিজীবী- এরকম আরও অনেকে।”
বুধবার বাংলাদেশ সরকারের হিসেবে মতে, মহামারি করোনাভাইরাসে ওই দিনই ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৭ হাজার ৫৩১। এছাড়া ওই দিন আরও ১ হাজার ২৩৫ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। এ নিয়ে দেশে মোট করোনা রোগী শনাক্ত হলো ৫ লাখ ১২ হাজার ৪৯৬ জন। এদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের সংখ্যা ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুযায়ী, বুধবার সকাল পর্যন্ত বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন অন্তত ৮ কোটি ৩০ লাখ মানুষ। মৃত্যু হয়েছে ১৮ লাখ ১০ হাজার জনের। সুস্থ হয়েছেন প্রায় ৬ কোটি।
রাদওয়ান মুজিব লিখেছেন, “প্রচুর মানুষ এমন ভাব করছে, যেন মহামারী শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু তা তো নয়। যখন মাস্ক পরা বা ন্যূনতম দূরত্ব রক্ষার কথা আসে, বিজ্ঞানকে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ আমাদের নেই। তাহলে কেন সেটা অনুসরণ করবেন না?”
ইউরোপ-আমেরিকায় সংক্রমণের দ্বিতীয় বা তৃতীয় ঢেউ শুরু হওয়ায় বাংলাদেশ সরকার জনগণকে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলছে, নাগরিকদের মাস্ক পরাতে রাস্তায় ভ্রাম্যমাণ আদালতও নামাতে হয়েছে। কিন্তু তারপরও অনেকে নানা অজুহাতে মাস্ক ছাড়াই বাইরে বের হচ্ছেন। কারও কারও মাস্ক থাকছে থুতনির নিচে।