আমিরজান হাইস্কুল।

মোঃমহসিন খান (নিজস্ব প্রতিবেদক): জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য যেমন প্রয়োজন শিক্ষা তেমনি সুষ্ঠু শিক্ষার জন্য প্রয়োজন একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল শিক্ষাঙ্গণ। অতি প্রাচীন কালের শিক্ষা পদ্ধতি বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে একেবারে অচল। তাই তৃতীয় বিশ্বে অত্যাধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ও রোবটের যুগে যুগোপযোগী ও মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণ একান্ত প্রয়োজন।

শিক্ষার্থীরা যাতে যথাযথ শিক্ষা গ্রহণ করে তাদের মেধার প্রতিফলন ঘটাতে পারে এবং উচ্চতর শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখতে পারে এবং একবিংশ শ্তাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার উপযোগী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ” শিক্ষারজন্য এসো, সেবার জন্য বেরিয়ে যাও ” ভাবাদর্শকে সামনে রেখে ঢাকার অদূরে তিনশ ফুট রাস্তার পাশে ডুমনীর প্রাণ কেন্দ্রে ২০০৪ সালে আমিরজান হাই স্কুল এবং ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘ আমিরজান কলেজ ‘। আমিরজান হাই স্কুল প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ১৬ বছর ধরে পিইসি, জেএসসি এবং এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন এ প্লাস, জিপিএ-৫সহ শতভাগ পাশের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আসছে।

এবছর (২০২০) এসএসসি পরীক্ষায় ৬ জন গোল্ডেন এ প্লাসসহ ৫৪ জন এ প্লাস (মোট পরীক্ষার্থীর ৫১.৪২%জিপিএ-৫), ৪৪ জন এ গ্রেড এবং ০৬ জন এ মাইনাস ও ১ জন বি গ্রেড পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। ১০৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে শতভাগ পাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটিতে।

অপর দিকে কলেজটি সকলের কাছে স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। কলেজটির সূচনালগ্ন থেকে কলেজের পরিচালকমন্ডলী , অধ্যক্ষ এবং চেয়ারম্যান জনাব মোঃ জিল্লুর রহমান (ঢাকা বিভাগের শ্রেষ্ঠ শিক্ষানুরাগী : গণপ্রজতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত) এর নেতৃত্বে দক্ষ ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন শিক্ষকমণ্ডলীর দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে এবং ঐতিহ্য ও সাফল্যের পতাকা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটিতে ছেলে ও মেয়েদের জন্য পাঁচতলা ভবন বিশিষ্ট আলাদা বিশাল ক্যাম্পাস, সম্মুখে মাঠ, বৃহদাকারে শ্রেণি কক্ষ , বিজ্ঞান ল্যাব, গ্রন্থাগার ও অডিটরিয়াম রয়েছে ।

কলেজটিতে রয়েছে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখা। বর্তমানে কলেজটিতে আটশতাধিক ছাত্র-ছাত্রী অধ্যায়নরত। উচ্চ মাধ্যমিক কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় ১০০%পাশের সাফল্য এবং ছয়টি ব্যাচের ৭৯ জন শিক্ষার্থী ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি, মেডিকেল কলেজ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ ও অসংখ্য মেধা বৃত্তি অর্জনের সমুজ্জ্বল ইতিহাস ইত্যাদি চমকপ্রদ দিকগুলো কলেজটির জন্য মাইলফলক।

আমিরজান কলেজ।

প্রতিষ্ঠানটি থেকে শুধুমাত্র ২০১৯ সালে চান্স পেয়েছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ২২ জন শিক্ষার্থী। স্বর্ণা আক্তার সালমা কৃতিত্বের সাথে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে ভর্তির গৌরব অর্জন করে, হালিমা আক্তার কুমিল্লা বিশ্বিদ্যালয় গ-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ২য় মেধা স্থান অর্জন করে ফিন্যান্স বিষয়ে অধ্যয়ন করছে, আনিকা তাবাস্সুম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত বিভাগে অধ্যয়ন করছে, কেয়া রহমান ঢাকা বোর্ডের মেধা ট্যালেন্ট লিস্টে ১১তম (বাণিজ্য বিভাগে গোল্ডেন এ+সহ) ট্যালেন্টপুলে এবং নুরাইন আক্তার পাপিয়া সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি অর্জন করে।

এ ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রতিটি জাতীয় দিবস উদযাপন ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানাদি পালনের মাধ্যমে জাতীয় সংস্কৃতি লালন, পরিচর্চা ও সম্প্রসারনের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে চলছে।

তথ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও আমিরজান কলেজ ও আমিরজান হাই স্কুল পিছিয়ে নেই। করোনার ভয়াবহ বিশ্ব মহামরির প্রকোপের মধ্যেও আমিরজান কলেজ এবং আমিরজান হাই স্কুলের শিক্ষকগণ নিয়মিত অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছেন।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, আমিরজান কলেজ এবং আমিরজান হাই স্কুলকে এতোদূর নিয়ে আসার পিছনে প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মজিবুর রহমান, প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান দিপু, চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।