মহসিন খান (নিজস্ব প্রতিবেদক): চরম অবহেলা এবং দুর্দশার শিকার সিটি কর্পোরেশনের অধীনে ডুমনীসহ আশেপাশের প্রায় ৩০হাজার মানুষ।

ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের অধীনে ৪৩নং ওয়ার্ডের প্রধান সড়ক ৩০০ফিট হতে ডুমনী পাতিরা হয়ে ইছাপুরা বালুর ব্রীজ পর্যন্ত রাস্তাটির অবস্থা খুবই শোচনীয়। বর্তমানে ৪৩নং ওয়ার্ড আগে ডুমনী ইউনিয়ন পরিষদের আওতাধীন ছিলো। পার্শ্ববর্তী পূর্বাচল উপশহর এবং বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার কারণে বর্তমানে ডুমনী এলাকায় প্রায় ৩০হাজার মানুষের বসবাস। সামান্য বৃষ্টির পনিতেই রাস্তায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। পুরো রাস্তা জুড়েই কাদার সৃষ্টি হয়। তাই দুভোর্গের শিকার হন এলাকার সকল মানুষ।

সরেজমিনে জানা গেছে, প্রতিদিন হাজারো মানুষ রাস্তাটি ব্যবহার করে কুড়িল এবং খিলক্ষেত যাতায়াত করেন। পূর্ববর্তী ইউনিয়ন পরিষদে থাকাকালীন রাস্তাটিতে কোনো প্রকার সংস্কারের কাজ করা হয়নি এবং বর্তমানে নবগঠিত ওয়ার্ড সিটি কর্পোরেশনের আওতায় আসার পরেও রাস্তটির কোনো প্রকার কাজ করা হয়নি।

ইতোমধ্যে পাতিরা সংলগ্ন বালু নদীর পাড়ে এনডিই, বোরাক ও প্রাণ-আরএফএলের মতো বড় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ওভার লোডেড লরি এবং ট্রাক চলাচলের কারণে রাস্তাটি সম্পূর্ণভাবে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এসকল প্রতিষ্ঠান রাস্তাটি ব্যাবহার করে ইট,বালু ও অনন্য পণ্য ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে থাকে। এতে করে রাস্তটির অবস্থা আরো খারাপ হয়ে পড়ে। এলাকার মানুষ সমস্যাটি থেকে প্রতিকার পেতে বিভিন্ন সময় রাস্তা অবরোধ করে এবং ভারি যানবাহন আটক করেন। তোপের মুখে প্রটিষ্ঠানের মালিকপক্ষ বেশ কয়েকবার রাস্তাটি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বুধবার (১৫জুলাই) জনগণের প্রতিবাদের মুখে মালিক পক্ষ আগামী সাতদিনের মধ্যে রাস্তটি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন।

এ ব্যাপারে এলাকার কাউন্সিলার মো: শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তা সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে এলাকাবাসীর কাছে জানতে চাইলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, রাস্তটি দিয়ে রিকশা, অটো রিকশা এবং পায়ে হেঁটেও চলার কোনো অবস্থা নেই এবং তারা এ ব্যাপারে যথাযথ কর্তপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, রাস্তাটির বেহাল দশার কারণে মানুষের চলাচলে অনুপোযোগী হওয়ায় তারা ব্যবসায় দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক ক্ষতির সম্মুক্ষিণ হচ্ছেন। রাস্তাটির দ্রুত সংস্কারের দাবি করেন তারা।

উল্লেখ্য, অ্রত্র এলাতকায় মিউচ্যুয়াল, ডাচ-বাংলা এবং আল-আরাফা সহ গ্রামীণ এবং স্টার্নফ্যানের কোম্পানি থাকা সত্ত্বেও রাস্তার অবস্থার কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। ফলে গ্রাহকরা অনেক সমস্যার সম্মুক্ষিণ হন। বেশকিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে এখানে। এর মধ্যে আমিরজান হাইস্কুল, ডুমনী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ,নবদূত মডেল, পাতুরা আইডিয়াল, দারুল হাদিস মডেল মাদ্রাসা, নবারুণ হাইস্কুল এবং নূরপাড়া দাখিল মাদ্রাসায় হাজার হাজার শিক্ষার্থী এবং অভিবাবক রাস্তটির কারণে দুর্ভোগের শিকার হন।