সকালে ঘুম থেকে উঠে হালকা খাবার খাওয়ার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। এই সময় অনেকে পরোটা-রুটি দিয়ে নাস্তা করেন আবার কেউ কেউ স্লাইস ব্রেড রাখেন। সাধারণত একটু সচেতন মানুষ নাস্তার এসব উপকরণের সঙ্গে পিনাট বা মাখন রাখেন। ব্রেডের সঙ্গে পিনাট বা মাখন দিয়ে নাস্তার প্রচলন বহু বছর আগে থেকেই চলে আসছে। তবে মনের ভেতর অজানা এক প্রশ্ন থেকে যায় কোনটা বেশি উপকারী, পিনাট না মাখন?

এক স্লাইস ব্রেড-মাখনে প্রায় ৪.১ গ্রাম প্রোটিন থাকে। দিনের ৭.৩-৮.৯ শতাংশ প্রোটিনের সমতুল্য এই উপাদান। দিনের শুরু থেকেই যদি শরীরে পরিমাণ মতো প্রোটিন প্রবেশ করে তাহলে পুষ্টির চাহিদা মিটবে। ব্রেড দিয়ে ব্রেকফাস্টে ১৮ গ্রাম (১৭ গ্রাম ব্রেড ও ১ গ্রাম মাখন) কার্ব থাকে। দিনের শুরুতে যথেষ্ট পরিমাণ কার্বের জন্য এনার্জি লেভেল হাই থাকবে। ফাইবার সমৃদ্ধ এসব খাবার পেট পরিষ্কার রাখে। তাই তো মাখনের বিকল্প হিসেবে চলে আসছে পিনাট বাটার।

দুধ থেকেই মাখন বা বাটার তৈরি হয়। গরু, মহিষ বা ছাগলের দুধ থেকে ক্রিম বা স্নেহজাতীয় পদার্থ বের করে মাখন বানানো হয়। আর পিনাট বাটার তৈরি হয় চিনা বাদাম বা বাদাম গুঁড়ো করে এর সঙ্গে উদ্ভিজ্জ তেল বা বনস্পতি ও স্বাদ অনুযায়ী লবণ মিশিয়ে

ক্যালোরির পার্থক্য : আজকাল সচেতন মানুষদের একাংশ মাখনের থেকে পিনাট বাটার বেশি পছন্দ করেন। কেননা এতে অল্প পরিমাণে স্নেহপদার্থ ও ক্যালোরি রয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম মাখনে ক্যালোরি থাকে ৭১৭। আর পিনাট বাটারে ১০০ গ্রামে থাকে ৫৬৭ ক্যালোরি। চর্বির পরিমাণও পিনাট বাটারে তুলনামূলক কম থাকে। প্রতি ১০০ গ্রামে মাত্র ৫০ গ্রাম চর্বি থাকে। আর বাটারে থাকে ৮১ গ্রাম। যারা শরীরের অনাকাঙ্ক্ষিত ওজন কমাতে চান তাদের জন্য পিনাট বাটার উপযুক্ত।

প্রোটিনের পার্থক্য : মাখনের থেকে পিনাট বাটারে প্রোটিনের পরিমাণ অনেক বেশি। ১০০ গ্রাম পিনাট বাটারে ২৫ গ্রাম প্রোটিন থাকে। আর মাখনে প্রোটিন আছে মাত্র ১ গ্রাম। এছাড়া পিনাট বাটারে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিডও রয়েছে, যা মস্তিষ্ক ও হাড়ের গঠনে সহায়তা করে।

সূত্র : ইন্ডিয়া টাইমস