আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা- আইএইএ’র একজন মুখপাত্র বলেছেন, ইরানের নাতাঞ্জ পরমাণু স্থাপনার দুর্ঘটনার বিষয়ে দেশটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার সংস্থার যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। পার্সটুডে।

আইএইএ’র মুখপাত্র ফ্রেডেরিক ডাল রাশিয়ার বার্তা সংস্থা তাসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তার সংস্থা নাতাঞ্জে রোববার ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার খবর গণমাধ্যম থেকে অবগত হয়েছে এবং এ ব্যাপারে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।

মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোশিয়েটেড প্রেস নাতাঞ্জের দুর্ঘটনাকে ‘অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতা’ উল্লেখ করে লিখেছে, ভিয়েনায় যখন ইরানের পরমাণু সমঝোতাকে পুনরুজ্জীবিত করার আলোচনা চলছে তখন ওই আলোচনাকে ভেস্তে দেয়ার লক্ষ্যে নাতাঞ্জে হামলা চালানো হয়েছে।

মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্ট এ সম্পর্কে একজন মার্কিন কর্মকর্তার প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, মার্কিন সরকার ইরানের নাতাঞ্জ স্থাপনায় হামলার খবর জানে। তবে তিনি দাবি করেন, এই হামলায় আমেকিরার কোনো হাত নেই।

রোববার সকালে ইরানের নাতাঞ্জ পরমাণু স্থাপনার বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় গোলযোগ দেখা দেয়। ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান আলী আকবর সালেহি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, তার দেশের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ব্যবস্থায় যে হামলা হয়েছে তা থেকে বোঝা যায় পরমাণু শিল্পে ইরানের চোখধাঁধানো সাফল্য অনেকে সহ্য করতে পারছে না।

এছাড়া, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ বলেছেন, তেহরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে ইরান যে সফলতা অর্জন করেছে তার প্রতিশোধ নিতে চায় ইহুদিবাদী ইসরাইল। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক সংসদীয় কমিটির বৈঠকে তিনি সোমবার এ মন্তব্য করেন। রোববার ইরানের নাতাঞ্জ পরমাণু কেন্দ্রে যে অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতা চালানো হয়েছে সে ব্যাপারে ইহুদিবাদী ইসরাইলকে দায়ী করেন জাওয়াদ জারিফ। তিনি বলেন, ইসরাইলের লক্ষ্য অর্জন করতে দেবে না ইরান বরং তাদের অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতার প্রতিশোধ নেয়া হবে।

এর আগেও নাতাঞ্জ পরমাণু স্থাপনায় আমেরিকা ও ইহুদিবাদী ইসরাইল যৌথভাবে সাইবার হামলা চালিয়েছিল।